মানব শরীর এক অত্যাশ্চর্য যন্ত্র। দিনরাত ধরে অবিরাম এটি কাজ করে চলে। আমরা যে খাবার খাই তার থেকে এটি শক্তি পায়। খাদ্যের এক চতুর্থাংশ ব্যয় হয় বিভিন্ন কার্যে যেমন কাজ করা, খেলাধুলা, সাধারণ নড়াচড়া প্রভৃতি। অন্য এক চতুর্থাংশ ব্যয় হয় জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে, যেমন—শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা, শরীর গঠন ও গ্রন্থির মেরামত এবং শরীরের সাধারণ অঙ্গ-প্রতঙ্গের স্বাভাবিক ক্রিয়াবলিকে সক্রিয় রাখা। খাদ্যের বাকি অর্ধাংশ মাটি ও বায়ুমণ্ডলিতে পরিত্যক্ত হয়। সুতরাং মানুষ তার গৃহীত খাদ্যের মাত্র অর্ধেকটাই শরীরের কাজে লাগায়। যান্ত্রিক পরিভাষায় তাই বলা হয় যে, শরীরের দক্ষতা মাত্রা ৫০% ।
মানব শরীরের প্রধান প্রধান উপাদান হলো : পানি ও বাতাস শতকরা ৯৫ ভাগ এবং অন্যান্য পদার্থ শতকরা ৫ ভাগ। ৬৮ কিলোগ্রাম ওজনের কোনো মানুষের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, তার শরীরে আছে প্রায় ৪৪.২৩ কিলোগ্রাম অক্সিজেন, ১২.১৫ কিলোগ্রাম কার্বন, ৬.৮ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন, ২.০৪ কিলোগ্রাম নাইট্রজেন, ১.০৯ কিলোগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৬৮০ গ্রাম ফসফরাস, ২০৪ গ্রাম সোডিয়াম, ২০৪ গ্রাম ক্লোরিন, ১৭০.১ গ্রাম সালফার, ৩৪ গ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ২.৭ গ্রাম আয়রন এবং ৩৩৭.৫ গ্রাম অন্যান্য খনিজ পদার্থ। উক্ত সব পদার্থ মিলিত হয়ে তৈরি করে শরীরে কোষ ও নানা গ্রন্থি ।
কার্বন ও হাইড্রোজেন মিলিত হয়ে তৈরি করে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা ও চর্বি। হাইড্রোজেন, নাইট্রজেন, কার্বন, অক্সিজেন প্রভৃতি প্রোটিনের আকারেই অবস্থান করে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শরীরের হাড় গঠনে অত্যাবশ্যকীয় পদার্থ । আয়রন শরীরের লোহিত কণিকার প্রধান উপাদান ।
সোডিয়াম ও ক্লোরিন শরীরে লবণরূপে বিদ্যমান থাকে। শরীর যন্ত্রের সুষ্ঠ কার্যনির্বাহের নিমিত্ত এই সব উপাদানগুলো এমনি করে নানা যৌগ সৃষ্টি করে চলে।
Leave a Comment