আদিকালে মানুষ যখন ক্রমশ সভ্য হতে লাগল তখন তার মনে অলংকরণের লোভ দেখা দিল। হাড়-পাথরের গয়নাগাটি তারপর তামা আর সোনা-রূপার আর সেই সঙ্গে মণি-মাণিক্যের। শেষকালে মানুষ দেখল যে, দুর্লভ বলে হীরা-জহরৎ সবচাইতে দামি। এমনই দামি যে ১৫ শতকের আগে হীরার কথা রাজা-বাদশাহ ছাড়া অন্য কেউ ভাবতেই পারত না।
হীরার পক্ষে দামি হওয়ার কতকগুলো কারণ আছে। সর্বপ্রথম কথা হলো, হীরা খুব দুর্লভ পদার্থ। আর যা কিছু দুর্লভ তাই অত্যন্ত মহার্ঘ হয়ে ওঠে। তারপর হীরার নিজস্ব একটা সৌন্দর্য আছে। এর ঔজ্বল্য অন্য সবকিছুকে মাত করে দেয়। আরও বড় কথা হলো যে, হাজার হাজার বছরেও এর রূপে কোনও বিকার দেখা দেয় না।
আসলে হীরা যখন খনি থেকে আসে তখন কিন্তু এর বিশেষ সৌন্দর্য থাকে না। হীরাকে কেটে, পালিশ করে তবে এতে লোভনীয় গুণ আনা হয় । হীরা কাটা খুব সহজ ব্যাপার নয়। কথায় বলে, হীরা দিয়ে হীরা কাটা। হীরা এত কঠিন যে অন্য কিছু কাছেই ঘেষতে পারে না। তাই হীরা কাটার জন্য দরকার হীরার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি চাকতি। এই চাকতি প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকে আর তার গায়ে হীরাকে ধরে ঘষা হয়। এটি সবাই পারে না। এ কাজের জন্য দরকার খুব দক্ষ কারিগরের এবং তার অভিজ্ঞতা তাকে শেখায় যে কোন হীরাকে কেমন করে কেটে পালিশ করলে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটবে, ঔজ্জ্বল্য মনোমুগ্ধকর হবে।
হীরার দাম নির্ভর করে তার আকার ঘনত্বের ওপর। বলার দরকার পড়ে না যে, যত বড় হীরা তত তার দাম। তার ওপর আছে হীরার রঙ। রক্তমুখী বা নীলা কম পাওয়া যায় তাই তাদের দামও বেশি। তবে কিছু এমন রঙহীন হীরাও আছে যার দাম অপেক্ষাকৃত কম ।
হীরার সম্বন্ধে দু একটা মজার কথা শোনো। হীরার জিনিসটা আসলে হলো অঙ্গার, মাটির তলায় ভীষণ চাপ আর প্রচণ্ড গরমে এক সময় কয়লাই হয় দারুণ চকচকে হীরা। বৈজ্ঞানিকরা এটা জানতে পারার পর তারা ল্যাবরেটরীতে নকল হীরা তৈরি আরম্ভ করলেন। দাম যাই হোক, হীরার জন্য আর প্রকৃতির কাছে তেমন হাত পাতার দরকার পড়ে না। অবশ্য এ হীরাকে কৃত্রিম বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হীরা বলা হয়। ইংরেজি বা ইউরোপের অনেক ভাষায় হীরার নাম হলো ডায়মন্ড (diamond)। আর এই ডায়মন্ড শব্দের উৎপত্তি হলো গ্রিক শব্দ adamnos থেকে, যার মানে হলো 'কঠিন'
অনেকের ধারণা যে হীরের উৎপত্তি ভারতে। তবে বিশ্ববিখ্যাত হীরা কোহিনূর ভারতেই জন্মেছিল সে বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই। কোহ-ই-নূর ফারসি শব্দ, যার মানে হলো আলোর পাহাড় ।
Leave a Comment