সঠিক কবে থেকে যে পতাকার প্রচলন হলো, সে কথা বলা ভারি কঠিন। তবে এটা ঠিক যে লড়াইয়ের ময়দানে সৈন্যবাহিনীর নিজেদের প্রয়োজনে পতাকা প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। ফৌজকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জমায়েত করবার জন্য জায়গাটা নির্বাচন করে সেখানে একটা লাঠির মাথায় এক টুকরো রঙিন কাপড় বেঁধে সেটাকে পুঁতে দেওয়া হতো। আর তাই দেখে নিজের দলের ফৌজরা একত্রিত হতো।
ঝাণ্ডার এরকম ব্যবহার প্রথম পাওয়া যায় সেকালের মিশরীয় আর পারসিকদের মধ্যে। বাইবেলে পাওয়া যায় যে ইহুদিদের নিজেদের স্বতন্ত্র পতাকা ছিল। মধ্যযুগে পতাকার ব্যবহার প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুরাকালে কাঠের গায়ে বিভিন্ন মূর্তি খোদাই করেও কাতার কাজ চালান হতো। কাপড় দিয়ে তৈরি কাণ্ডা প্রথম ব্যবহৃত হলো রোম সাম্রাজ্যে, তারা ব্যবহার করত আয়তাকার বস্ত্রখণ্ড বর্শার ডগায় বেঁধে।
পৃথিবীর সবচাইতে পুরানো জাতীয় পতাকা দেখা দিল ১২১৮ সালে ডেনমার্কে আর ১৩৩৯ সালে সুইজারল্যান্ডে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার ঝাণ্ডা বেছে নেবার পর অন্যত্রও এর প্রচলন শুরু হয়। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের পর সেই দেশের অধিবাসীরা সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার প্রতীক চিহ্ন সম্বলিত ঝাণ্ডার ব্যবহার আরম্ভ করে। ১৮০৫ সালে ইতালিয়দের নিজেদের ফ্ল্যাগ দেখা দিল। উনবিংশ শতাব্দীতে ক্রমে ক্রমে ইউরোপের সব দেশেই ঝাণ্ডার উদ্ভব হয়েছিল।
আমেরিকার ইন্ডিয়ান রাজ্যে ২২ মার্চ ১০৮০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝাণ্ডা ওড়ান হয়, যার আকার ছিল লম্বায় ১২৫ মিটার বা ৪১১ ফুট, চওড়ায় ৬৪ মিটার বা ২১০ ফুট আর ওজন ছিল ৭ টন ।
১৯৪৭ সালে ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরি হয়। ত্রিবর্ণ রঞ্জিত এই পতাকার রঙ হলো, ওপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা আর নিচে সবুজ, সাদার ওপরে ২৪টি অর (spoke) যুক্ত নীলরঙের অশোক চক্র আঁকা। দু-একটি ভিন্ন পতাকার বিষয়ে কতকগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম আছে যা
অন্যান্য দেশের মতো আমরাও মেনে চলি। সেগুলো হলো : অন্য কোনো পতাকা আমাদের জাতীয় পতাকার ওপরে বা এর ডানদিকে ন্যাস্ত হবে না । জাতীয় উৎসব ভিন্ন বছরের অন্যদিন, এর ব্যবহার শুধু সরকারি ভবনে সীমিত থাকবে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শোকের অভিব্যক্তিস্বরূপ জাতীয় পতাকার ধাবমান (half mast) হবে। কোনো কারণেই যেন পতাকার অঙ্গহানি না হয় । জাতীয় উৎসব অনুষ্ঠানে ঝাণ্ডা অভিবাদন অবশ্য কর্তব্য। আমাদের দেশের জন্য বিশেষ নিয়ম হলো, জাতীয় পতাকা কেবলমাত্র খদ্দর অথবা দেশীয় রেশম দিয়ে তৈরি হবে।
Leave a Comment