সব জাতের মানুষ আর ধর্মই ভূত-পেত্নীদের অস্তিত্বে অল্প-বিস্তর বিশ্বাস করে। মাঝে মাঝে খবরের কাগজের পাতায় ভূতদের টিকে থাকার ব্যাপার নিয়ে ফলাও করে খবর-টবরও ছাপা হয়। অনেকে আবার তাদের নিজের চোখে দেখা ভূতের কাহিনি শুনিয়ে থাকেন।
হিন্দু ধর্মে প্রচলিত বিশ্বাস হলো, ভূত-প্রেত এক স্বতন্ত্র জাতি বিশেষ। বলা হয় যে, মরার পর মানুষ তার কর্মফল অনুযায়ী ভূত বা অশরীরী আত্মা হয়ে দেখা যায়, এমনিতে চোখে দেখা না গেলেও ভূতেরা যে কোনো জায়গায় দেখা দিতে পারে, আবার মিশিয়ে যেতে পারে। প্রচলিত বিশ্বাস। হলো যে, ভূত-পেত্নীরা সবাই বাস করে ভাঙা বাড়িতে, গোরস্থানে, পুকুর পাড়ে, কুয়োর মধ্যে, ছমছমে নিঝুম জায়গায়, বট-অশ্বথ গাছের ডালে।
বহু জাতির মধ্যে রীতি হলো মৃত ব্যক্তির পারলৌকিক শেষকৃত্য করা, যাতে করে তার আত্মা ভূত হয়ে এসে মানুষকে উত্যক্ত না করে। বিজ্ঞানীদের মতামত কিন্তু এক্ষেত্রে অন্যরকম। তারা মনে করেন
ভূতের অস্তিত্ব নেহাৎ একটা কাল্পনিক ব্যাপার। বিজ্ঞানসম্মত তথ্যের বিচারে ভূত দেখার ঘটনা হলো মন বা চোখের বিভ্রম। একটা জিনিসের সত্যি সত্যি অস্তিত্ব থাকলেও বিভ্রম দেখা দেয় যখন আমাদের চোখ বা মন তাকে অন্যভাবে দেখতে চায়। মরুভূমিতে যে মৃগতৃষ্ণিকা বা মরীচিকা দেখা যায় সেও এক ধরনের বিভ্রম। দারুণ তেষ্টায় ছটফট করতে করতে মনে হয় সামনেই যেন এক বিরাট পুকুরে পানি টলটল করছে। তেষ্টা মেটানোর জন্য পুকুর ধারে পৌঁছাতে গিয়ে দেখা যায় যে পুকুরটা যেন খালি দূরে সরে যাচ্ছে। যতই চেষ্টা করা যাক না কেন পানি পর্যন্ত আর যাওয়া যায় না। আর এই করতে করতে পথহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত এক সময় মরে যেতে হয়। মরুভূমিতে পানির এই যে বিভ্রম ঘটে তার পেছনে রয়েছে বালির ওপর সূর্যের আলোর এক বিশেষ আভ্যন্তরীণ প্রতিফলন। আসলে পানি তো আর সেখানে থাকে না, পানির আভাস বা বিভ্রম ঘটে যখন বালির ওপর গাছপালার উল্টো প্রতিফলন ফুটে ওঠে।
এক ধরনের বিভ্রমকে বলা হয় অমূল প্রত্যক্ষ ( hallucination) এই অমূল প্রত্যক্ষ বা যা নেই তাকে দেখার ব্যাপারটা ঘটে যখন নানা কারণে মনের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে বা একটা সংশয় দেখা দেয়। আবার কয়েক রকম নেশাভাঙ করলেও এ রকমটা হতে পারে। আর সেই অবস্থায় মানুষ অনেক কিছুই শুনতে পায়, আশ্চর্য অদ্ভুত অনেক কিছুই দেখতে পায় । ভয়ঙ্কর ভূতুড়ে সেই সব দেখে-শুনে ভয় পায়, আর তখনই ভূত-পেত্নীদের আমদানি হয়। কোকেন নামে এক রকম নেশার জিনিস খেয়ে তার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে, তখন মনে হতে পারে যে শরীরের ওপর দিয়ে যেন পোকা-মাকড়েরা কিলবিল করে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা তাই বুঝতে পেরেছেন যে ভূত-পেত্নীদের আসল অস্তিত্ব বাস্তবে কোথাও নেই। সবটাই হলো মনের বিভ্রম।
Leave a Comment