মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশই হলো এই মস্তিষ্ক। মানব শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে প্রায় ১৩ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ (Nerve cells) বিদ্যমান। এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন থাকে মস্তিষ্কেই। মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১.৪ কিলোগ্রাম (৩ পাউন্ড)। শরীরের যাবতীয় ক্রিয়াবলি যেমন-দেখা, ঘুমানো, চলাফেরা, হজম- প্রক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রভৃতি মস্তিষ্ক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো পঞ্চ-ইন্দ্রিয় থেকে সংবাদপ্রাপ্ত হয়। মস্তিষ্ক সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করে এবং তারপর কী করতে হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী মস্তিষ্ক মাংসপেশীসমূহ ও শরীরের অন্যান্য অংশে সংকেত পাঠায় ।


মানুষের মস্তিষ্ক প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত যথা- সেরিব্রাম (Cerebrum), সেরিবেলাম (Cerebe llum) ও মেডুলা অবলোঙ্গাটা (Medulla Oblongata)। সেরিব্রাম বা বৃহৎ মস্তিষ্ক হলো সবথেকে বড় অংশ। এই অংশটি আবার সমান দুই ভাগে বিভক্ত। এর এক একটি ভাগকে বলে 'সেরিব্রাল হেমিস্কোয়ার' বা মস্তিষ্কের অর্ধগোলক (Cerebral hemisphere)। 'সেরিবাগ হেমিস্ফেয়ার'-এর বাইরের অংশকে বলে করটেন্স (Cortex)। মস্তিষ্কের অর্ধগোলকের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র বা অঞ্চলকে বলে 'গোৰ' (Lobes)। সম্মুখস্থ লোকগুলো থাকে আমাদের কপালের ঠিক পিছনে। এখানেই চিন্তা, বিচার বিশ্লেষণ ও মুসক্তি সম্পাদিত হয়ে থাকে। এই অর্থগোলকে থাকে সাদা ও ধূসর বর্ণের এক পদার্থ।


সেরিবেলাম বা লঘুমস্তিষ্ক হলো মস্তিষ্কের দ্বিতীয় বৃহৎ অংশ। মাথার গুলির পিছন দিকটায় সেরিবেলামের নিচে এর অবস্থান। মানুষের স্বেচ্ছাকৃত চলাফেরা ও ভারসাম্যর মধ্যে সমন্বয় বিধান করাই এর কাজ। যদি কোনো কারণে এই অংশটি আহত হয় তাহলে মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা ইটিতে পারে না।


মস্তিষ্কের তৃতীয় অংশটি "মেডুলা অবলোঙ্গাটা"। আমাদের বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরের অংশে এর অবস্থান। শ্বাস-প্রশ্বাস, হজম প্রক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন এবং শিরা-ধমনীর সংকোচনকে এটি নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের বাম দিকের অংশটি আমাদের দেহের ডান দিককার অঙ্গকে এবং ডানদিকের অংশটি আমাদের দেহের বাম দিককার অঙ্গকে নিয়ন্ত্রিত করে। সমগ্র মস্তিষ্কটি শক্ত হাড় দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। একে বলে মাথার খুলি। তবে খুলিতে তীব্র আঘাত লাগলে মস্তিষ্ক আহত হতে পারে। তাছাড়া মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ না হলেও মস্তিষ্ক আহত হয়। তাই কোনো রকম আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করা খুর দরকারি।


কোনো রোগ ভোগ বা ওষুধের প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাতে রোগীর স্বাভাবিক আচার-আচরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দেয়। এই ধরনের অসুস্থতাকে বলে মানসিক পীড়া। শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়ায় মস্তিষ্ককে খুব সাবধানতা সহকারে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন ।



Leave a Comment